ফেসবুকে একটা ছবি দিলে দুই-আড়াইশো লাইক পরে। কিন্তু একটা লেখা দিলে সর্বোচ্চ বিশ-ত্রিশটা লাইক হয়তো পরে। একটা ছবি দিতে আমার মস্তিষ্কের উপরে কোন চাপ পরে না। একটা লেখা লিখতে মস্তিষ্কে অনেক চাপ পরে। কতবার ভাবতে হয়। লেখাটা বহুবার কাটাছিড়া করতে হয়। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালী বিনোদন খোঁজে। তাই লেখা পড়ার ধৈর্য্য তাদের কম। তারা ছবিতে লাইক-কমান্ড দিতেই বেশি মজা পায়। লেখা পড়তে গেলে মস্তিষ্কের যেটুকু গঠন হওয়া দরকার অধিকাংশ বাঙালির সেটা হয় নি। আগে তবু মানুষ সময় কাটানোর জন্য হলেও দু'একখানা বই পড়তো। আর এখনতো সময় কাটানোর মাধ্যমের অভাব নেই। এমন একটা প্রজন্ম আমরা তৈরি করছি যারা প্রচন্ড বই বিমুখ। একটা বই বিমুখ জাতির ভবিষ্যৎ ভাবতেই ভয় হয়। আমাদের যতই অর্থনৈতিক উন্নতি হোক,জাতি হিসেবে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি করতে না পারলে আমাদের কখনই মানসিক উন্নতি সম্ভব নয়। আর মানসিক উন্নতি ব্যতীত একটা জাতির ভবিষ্যৎ কি হতে পারে সেটা কল্পনা করতেও আতংকিত হয়ে পরি।
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২, সমকামিতা এবং আমার মৃত ভাই
কাতার বিশ্বকাপের আনন্দে সবাই বুদ হয়ে আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই খেলার মাঠে মদ খাওয়াসহ কাতারের অনেক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেসব নিয়ম ফিফা মেনে নেয়ায় এদেশের অনেকে আনন্দিত হয়েছে। খেলার মধ্যে ধর্ম টেনে আনাটা আমার জন্য অস্বস্তিকর একটি কাজ। মানসিক শান্তি নষ্ট হয়। কিন্তু আহমদ ছফার বাঙালি মুসলমানদের কোনোকিছুই ধর্ম ছাড়া চলে না। আমার জানামতে খেলাকে ঘিরে যত ঘটনা ঘটে যেমন-সরাসরি সম্প্রচার,বিজ্ঞাপন, খেলোয়াড়দের পোশাক বেশিরভাগই ধর্ম সমর্থন করে না। সেটা অনেক বড় বিতর্ক। বিশ্বকাপে কয়েকটা দলের অধিনায়ক সমকামীদের সমর্থনে আয়োজকদের নিষেধ সত্ত্বেও ওয়ান লাভ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে চেয়েছিল । কিন্তু সেই সিন্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছে। কারণ কেউ আর্মব্যান্ড পরে নামলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। আমাদের সমাজে ঘটা অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে সমকামিতা একটি। আর এর কারনেই দেড় বছর আগে আমার ভাই খুন হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের থেকে একটা রিপোর্ট আদালতে যায় নি। তাই আমি অপেক্ষা করছি। আর সমকামিতা বিষয়টা জানার চেষ্টা করছি। মোটামুটি বুঝতে পারার পরথেকেই আমি সমকামীতাকে ঘৃনার চোখে দেখতাম। আমাকে বোঝ...
Comments
Post a Comment