করোনা নামক মহামারীতে আজ পুরো পৃথিবী স্তব্ধ। বন্দীজীবনে আমরা সবাই কিছু না কিছু মানসিক জটিলতায় ভুগছি। তবে সবথেকে বেশি সমস্যায় রয়েছে শিশুরা। তারা উচ্ছ্বল, খোলামেলা জীবনকে ছুটি দিয়ে ঘরবন্দী জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে । এই সময়টাতে বৈশ্বিক এই মহামারী নিয়ে আপনার সন্তানের সাথে খোলা মনে আলোচনা করুন। প্রথমত, আপনার সন্তানের সাথে মহামারী নিয়ে আলোচনা শুরু করুন। জানার চেষ্টা করুন সে কতটা জানতে পেরেছে। এই বিষয়ে তারা কি কি সতর্কতা অবলম্বন করছে সেটাও জানার চেষ্টা করুন। আপনাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন তারা সহজে এ বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে। সর্বপরি এই মহামারির সময় আপনার সন্তানের সাথে বন্ধুর মত সম্পর্ক গড়ে তুলুন। একসাথে ছবি আকা,গল্পের বই পড়া অথবা খেলার মাধ্যমে তার সাথে খোলামনে কথা বলা শুরু করতে পারেন। খুব ছোট হলে এ বিষয়ে আলোচনা না করাটাই উত্তম। তাদেরকে পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতার সাধারন বিধি-নিষেধগুলো মেনে চলতে উৎসাহিত করুন। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেয়া। বিশ্বের সকলের ন্যায় শিশুদেরও অধিকার রয়েছে মহামারী সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাবার। আপনি কোন প্রশ্নের উত্তর না জানলে এড়িয়ে য...
স্কুল ড্রেস এই রিক্সা যাবা । রহমত মিয়া নিরাসক্ত দৃষ্টিতে লোকটার দিকে তাকিয়ে বলল, কই যাইবেন? চৌরাস্তা। না ওদিকে যামু না। রহমত মিয়া ধীরে ধীরে রিক্সার প্যাডল দিতে থাকে।আজকে তার রোজগার ভাল। এখন হোটেলে গিয়ে চারটা ডাল-ভাত খেতে হবে।আজকে মুরগি দিয়া খাওয়া যায়। চিন্তাটা মাথায় আসলেও সাথে সাথে গাঁয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটার কথা ভেবে সে কিছুটা আনমনে হয়ে রিক্সা চালাতে থাকে।মেয়েটা এ বছর স্কুলে ভর্তি হয়েছে। একটা নতুন স্কুল ড্রেসের জন্য আজকেও মোবাইলে কান্না-কাটি করছে। এখন আয়রোজগার যখন একটু ভাল হচ্ছে তা দিয়া বাজে খরচ না করে কিছু টাকা জমিয়ে মেয়েটাকে একটা ড্রেস কিনে দিলে খুশি হবে।ছেলেটাকে তো কিছুই দিতে পারে নাই।আর দিবেই বা কোথা দিয়ে।গাঁয়ে বদলা দিয়ে যা আয় হত তা দিয়া তিনবেলা খাওয়াই জুটত না।বউটা ঠিকা কাজ করে সংসারটা কোনরকম দুইজনে চালিয়েছে।মেয়েটা হওয়ার পর ছোটশালার কথামত শহরে এসে রিক্সা চালিয়ে বাড়ি টিনের ঘর উঠছে,পোলারে মেট্রিক পাস দেওয়াইছে।হানিফ মাস্টার বলছে পোলায় নাকি খুবই ভাল পাস দিছে। রহমতকে দেখে কালু মিয়া বলে উঠল, কি মিয়া আইজ তাড়াতাড়ি আইলা যে। খ্যাপ নাই, মানু এহন ...
বাতাসে বারুদের গন্ধ। পৃথিবী গন্ধমুক্ত হোক। এইতো সেদিন পৃথিবীর একপ্রান্তে বারুদের গন্ধে মুছে গিয়েছিল কয়েকশো তাজা প্রাণ। অধিকার আদায়ের দাবিতে নিভে গিয়েছিল কয়েকশো মায়ের কলিজার ধন। আজকে এইপ্রান্তে দেখি পিতৃহারা এক নির্বাক শিশুর চোখের জলের বান। এমনসব মৃত্যু আর দেখতে মন চায় না। পৃথিবী ছেড়ে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও গিয়ে একাকী আশ্রয় নিতে পারলে ভালো হতো। চুপচাপ "মাতাল হাওয়া" পড়তাম। নাদিয়ার মৃত্যুতে চোখের জল ফেলতাম। আবার কাল্পনিক কোন রূপার প্রেমের মধুর সমাপ্তি দেখে হেসে উঠতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। মানুষ নামক নিষ্ঠুরতার সাথেই আমার বসবাস। তাইতো এসব মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কোনো অবকাশ নেই।
Comments
Post a Comment