সমাজে চলতে গেলে অনেকসময় অনেক কিছু এড়িয়ে যেতে হয়। কিছু কারন সমাজের গোঁড়ামি আর কিছু কারন ব্যক্তিগত। প্রেমিক-প্রেমিকাদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা হার হামেশাই ঘটে। ধরুন দু'জন দেখা করার প্রোগ্রাম করলো। কিন্তু হয়তো বহুবছর পর বাল্যবন্ধুদের সাথে ব্যচেলর পার্টি পরে গেলো কিংবা বাসায় হয়তো মেহমান আসলো। তখন এড়িয়ে যাওয়া ছাড়া হয়তো আর উপায় থাকে না। প্রেমিক কিংবা প্রেমিকা কখনও বুঝতে চায় না তার সাথে দেখা করার থেকে প্রিয়জনের এসব কাজ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তখন ঝামেলা এড়িয়ে যাওয়ার প্রয়োজনে হয়তো এমন কোন অজুহাত দাড় করাতে হয় যার গুরুত্ব ভালোবাসার মানুষটার সাথে দেখা করার চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিনয় আমাদের করতে হয়। এরকম হাজারো ঘটনার অবতারণা করা যাবে। যেসব ক্ষেত্রে আমরা এড়িয়ে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। একটুখানি অভিনয় করে যদি অস্বস্তিকর পরিবেশ এড়িয়ে যাওয়া যায় তাহলে সেটাই ভালো। এই এড়িয়ে যাওয়াটাকে আমার ভন্ডামি মনে হয়। খুব সূক্ষ্ম ধরনের ভন্ডামি। যার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমরা এই ভন্ডামিকে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই নেই। হয়তো পারতপক্ষে এর কোন প্রভাব আমাদের জীবনে পরে না। কিন্তু এইসব সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর প্রভাব অবশ্যই রয়েছে। আমাদের চরিত্র গঠনে এর বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। আমাদের জীবনযাত্রায় যখনই কোন অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয় আমরা সেটাকে এড়িয়ে যেতে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে বড় ধরনের ভন্ডামির আশ্রয় নেই। কেননা অবচেতন এর সাথে আগেই পরিচিত। অস্বস্তির চেয়ে সে এই অভিনয়টাকেই শ্রেয় মনে করে।
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২, সমকামিতা এবং আমার মৃত ভাই
কাতার বিশ্বকাপের আনন্দে সবাই বুদ হয়ে আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই খেলার মাঠে মদ খাওয়াসহ কাতারের অনেক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেসব নিয়ম ফিফা মেনে নেয়ায় এদেশের অনেকে আনন্দিত হয়েছে। খেলার মধ্যে ধর্ম টেনে আনাটা আমার জন্য অস্বস্তিকর একটি কাজ। মানসিক শান্তি নষ্ট হয়। কিন্তু আহমদ ছফার বাঙালি মুসলমানদের কোনোকিছুই ধর্ম ছাড়া চলে না। আমার জানামতে খেলাকে ঘিরে যত ঘটনা ঘটে যেমন-সরাসরি সম্প্রচার,বিজ্ঞাপন, খেলোয়াড়দের পোশাক বেশিরভাগই ধর্ম সমর্থন করে না। সেটা অনেক বড় বিতর্ক। বিশ্বকাপে কয়েকটা দলের অধিনায়ক সমকামীদের সমর্থনে আয়োজকদের নিষেধ সত্ত্বেও ওয়ান লাভ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে চেয়েছিল । কিন্তু সেই সিন্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছে। কারণ কেউ আর্মব্যান্ড পরে নামলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। আমাদের সমাজে ঘটা অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে সমকামিতা একটি। আর এর কারনেই দেড় বছর আগে আমার ভাই খুন হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের থেকে একটা রিপোর্ট আদালতে যায় নি। তাই আমি অপেক্ষা করছি। আর সমকামিতা বিষয়টা জানার চেষ্টা করছি। মোটামুটি বুঝতে পারার পরথেকেই আমি সমকামীতাকে ঘৃনার চোখে দেখতাম। আমাকে বোঝ...
Comments
Post a Comment