সন্তানের সামান্য অসুস্থতায় পিতামাতার উদ্বেগের সীমা থাকে না। জ্বর,সর্দি,মাথাব্যথা বা অন্য যেকোন ধরনের অসুস্থতা তা যত হালকা হোক না কেন পিতামাতার ঘুম হারাম হয়ে যায়।এইসব কোন উপসর্গ দেখার সাথে সাথে আপনি আপনার সন্তানকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে ছুটে যানকিন্তু আপনার সন্তানের মানসিক কোন সমস্যা আছে কিনা সে ব্যাপারে আপনি কতটা সচেতন? আমাদের দেশে “মানসিক” শব্দটা শুনলেই সবাই দূরাবধ্য কোন রোগকে বুঝি। প্রকৃতপক্ষে মানসিক সমস্যা কমবেশি সব মানুষেরই থাকে।প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এইসকল প্রতিবন্ধকতা খুব সহজেই জয় করতে পারে। কিন্তু একটি শিশু বা কিশোর যেসকল মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয় সেগুলো তার ভবিষ্যত চলার পথে বাধার সৃষ্টি করে।যেসকল সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ তার জানা থাকে না। অধিকাংশ পিতামাতা বুঝতেই পারে না তার সন্তানের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার কিছু পিতামাতা বুঝতে পারলেও এটা নিয়ে তেমন চিন্তিত হন না যতটা চিন্তিত হন সন্তানের সামান্য ভাইরাসঘটিত জ্বর-সর্দিতে।

শিশুর মানসিক রোগ যেমন বিষন্নতা,উদ্বেগ,আত্মবিশ্বাসের অভাব ইত্যাদি উপসর্গ পিতামাতার চোখে খুব সহজেই ধরা পরে।বেশিরভাগ পিতামাতা তার সন্তানের এসকল বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞ কারো পরামর্শ নিতে দ্বিধায় ভোগে।তারা ভাবে এটা বয়স হলে ঠিক হয়ে যাবে। আবার অনেকে চিন্তা করে এসকল বিষয় নিয়ে সন্তানকে বিশেষজ্ঞ কারো কাছে নিয়ে গেলে সন্তানের মানসিক আরো বড় কোন সমস্যা হতে পারে। মূলত এসকল অজ্ঞতাই আপনার সন্তানের ভবিষ্যত চলার পথকে আরও কঠিন করে তোলে।যে গাছটিকে আপনি খুব সহজেই উপড়ে ফেলতে পারতেন তা না করে আপনি তার গোড়ায় জল ঢেলে ধীরে ধীরে মহীরুহে পরিণত করছেন। যা ভবিষ্যতে উপড়ানোর আর কোন পথ ই হয়তো থাকবে না।তাই প্রত্যেক পিতামাতার তার সন্তানের দৈহিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক বিকাশের দিকে খেয়াল রাখাটা অন্ত্যন্ত জরুরী। 

Comments

Popular posts from this blog

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২, সমকামিতা এবং আমার মৃত ভাই

বুক রিভিউ- ১ : তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে - হুমায়ূন আহমেদ