চেতন আর অবচেতন

একদিন চেতন আর অবচেতনকে এক করে দিয়ে হারিয়ে যাবো মহাশূন্যের কোনো নির্বিবাদী গ্রহান্তরে। কেউবা অবাক হবে, কেউবা আঘাত পাবে, কেউবা দীর্ঘশ্বাস ফেলবে, কেউবা রেগে যাবে।
চেতনের ভাবপ্রকাশে কতশত বার ফিল্টার করতে হয় প্রতিটি লেখাকে, মাইক্রোস্কোপিক জালিতে ছাঁকতে হয় প্রতিটি চিন্তাকে। যেন কারও অনুভূতি আবার আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। প্রকাশিত হবার অসহ্য যন্ত্রনায় ছিঁড়ে যেতে চায় মস্তিষ্কের প্রতিটি কোষ। কোলেস্টেরলের চাপে যেমন বাঁধ জমে নিউরনের কোষগুলোতে, স্ট্রোকের প্রতিটি ঝাঁকিতে মৃত্যু হয় একটির পর একটি কোষের; তেমনি বাঁধ জমে অনুভূতি বাচানোর তীব্র আর্তনাদের, মৃত্যু হয় চিন্তাগুলোর।
তবে অবচেতনের অতোশত ভাবনা নেই। যা মনে আসে তাই বলে দেয়। কখনও প্রেমিক হয়,কখনও কামুক হয় আবার কখনওবা সমালোচক হয়৷ সে কি তীব্র সমালোচনা। সমাজের রক্তচক্ষুর কোনো ভয় ওর নেই, নেই সামাজিকতা রক্ষার নির্মম বাস্তবতার কোনো নয়-ছয়, পাছে লোকে কিছু বলাকে ও বা*টা দিয়েও পোছে না। শব্দশৈলীর অপার্থিব প্রকাশে ঝরনাধারার মতো প্রবাহিত হতে থাকে চিন্তাগুলো।
চিন্তার কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জন্ম নেয় নিত্য নতুন কোষের সমাহার। ধীরে ধীরে বীজ থেকে চারা হয়, চারা থেকে জন্ম নেয় বৃক্ষরাজি, সেখান থেকে পৃথিবী আর সেথা হতে মহাবিশ্বের অসীম শূন্যতার। কখনও হাতড়ে বেড়ায়, কখনওবা বইয়ের পাতায় মুখ লুকায়, আবার কখনও একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যায়। চেতন আর অবচেতনের মিশেল কি হয় সেটা দেখার অপেক্ষায়। শুধু একটাই ভয়। ওরা যদি আবার মৃত্যু পরোয়ানা হাতে ঝুলিয়ে দিতে চায়। তাইতো চেতন হারিয়ে যেতে চায়। মহাশূন্যের কোনো এক ব্লাকহোলের অসীম নিস্তব্ধতায়।

Comments

Popular posts from this blog

বুক রিভিউ- ১ : তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রনে - হুমায়ূন আহমেদ