Posts

বাতাসে বারুদের গন্ধ

বাতাসে বারুদের গন্ধ। পৃথিবী গন্ধমুক্ত হোক। এইতো সেদিন পৃথিবীর একপ্রান্তে বারুদের গন্ধে মুছে গিয়েছিল কয়েকশো তাজা প্রাণ। অধিকার আদায়ের দাবিতে নিভে গিয়েছিল কয়েকশো মায়ের কলিজার ধন। আজকে এইপ্রান্তে দেখি পিতৃহারা এক নির্বাক শিশুর চোখের জলের বান। এমনসব মৃত্যু আর দেখতে মন চায় না। পৃথিবী ছেড়ে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও গিয়ে একাকী আশ্রয় নিতে পারলে ভালো হতো। চুপচাপ "মাতাল হাওয়া" পড়তাম। নাদিয়ার মৃত্যুতে চোখের জল ফেলতাম। আবার কাল্পনিক কোন রূপার প্রেমের মধুর সমাপ্তি দেখে হেসে উঠতাম। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। মানুষ নামক নিষ্ঠুরতার সাথেই আমার বসবাস। তাইতো এসব মৃত্যু দেখা ছাড়া আর কোনো অবকাশ নেই।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২, সমকামিতা এবং আমার মৃত ভাই

  কাতার বিশ্বকাপের আনন্দে সবাই বুদ হয়ে আছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই খেলার মাঠে মদ খাওয়াসহ কাতারের অনেক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেসব নিয়ম ফিফা মেনে নেয়ায় এদেশের অনেকে আনন্দিত হয়েছে। খেলার মধ্যে ধর্ম টেনে আনাটা আমার জন্য অস্বস্তিকর একটি কাজ। মানসিক শান্তি নষ্ট হয়। কিন্তু আহমদ ছফার বাঙালি মুসলমানদের কোনোকিছুই ধর্ম ছাড়া চলে না। আমার জানামতে খেলাকে ঘিরে যত ঘটনা ঘটে যেমন-সরাসরি সম্প্রচার,বিজ্ঞাপন, খেলোয়াড়দের পোশাক বেশিরভাগই ধর্ম সমর্থন করে না। সেটা অনেক বড় বিতর্ক। বিশ্বকাপে কয়েকটা দলের অধিনায়ক সমকামীদের সমর্থনে আয়োজকদের নিষেধ সত্ত্বেও ওয়ান লাভ আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে চেয়েছিল । কিন্তু সেই সিন্ধান্ত থেকে তারা সরে এসেছে। কারণ কেউ আর্মব্যান্ড পরে নামলে তাকে হলুদ কার্ড দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। আমাদের সমাজে ঘটা অনেকগুলো বিতর্কিত বিষয়ের মধ্যে সমকামিতা একটি। আর এর কারনেই দেড় বছর আগে আমার ভাই খুন হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের থেকে একটা রিপোর্ট আদালতে যায় নি। তাই আমি অপেক্ষা করছি। আর সমকামিতা বিষয়টা জানার চেষ্টা করছি। মোটামুটি বুঝতে পারার পরথেকেই আমি সমকামীতাকে ঘৃনার চোখে দেখতাম। আমাকে বোঝ...

এসএসসির রেজাল্ট

এসএসসির রেজাল্ট দিয়েছে। সোস্যালের গোয়ালে যথারীতি বেশিরভাগই হাস্যরস আর আনন্দের প্রকাশ দেখতে পাচ্ছি । ত্রয়োদশীয় বালিকা থেকে শুরু করে আমার বয়সী বুড়োরা- কেউই মোটামুটি ছাড় দিচ্ছে না। কিন্তু আনন্দ বাদ দিয়ে যদি আমার মতো বুড়োর কাছেও এরা কেউ পরামর্শ চাইতে আসে তখন অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাবে। কারন কি পরামর্শ দেবো এই প্রজন্মকে। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র। মানে আগাগোড়া সাইন্স। ছোটবেলায় বিজ্ঞান বইতে পড়েছি পৃথিবী গোল। কিন্ত বলা হলো চিরন্তন সত্য হলো পৃথিবী সমতল। আবার একটু বড় হয়ে পড়লাম মানুষ অর্থাৎ হোমো সেপিয়েন্স প্রজাতি এসেছে আফ্রিকার নিয়ান্ডারথাল থেকে বিবর্তিত হয়ে। তখন সেটা মানতে পারিনি। তাই এখনও মানতে কষ্ট হয় যে মোবাইল,কম্পিউটার, ইন্টারনেট এগুলো বিজ্ঞান দিয়েছে। আবার চিকিৎসা,শিক্ষা,যোগাযোগ সবক্ষেত্রেই বিজ্ঞান অনেককিছু দিয়েছে; জানি। কিন্তু বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা মানি না। তাইতো বলি এই ছাইন্স না বুঝাইলেও পারতেন মিয়ারা। সাইন্স নিতে বললে ওদেরকেও এই ছাইন্সই বুঝানো হবে নিশ্চিত। মানবিক আর ব্যবসায় শিক্ষার ক্ষেত্রেও মোটামুটি সেইম। আটবছর ডেবিট-ক্রেটিডের হিসেব মেলানোর পর তাকে বলা হবে জীবনের হিসেব ডাটায় মিলবে না, সে হিসাব আগে...

আবেগ এবং যুক্তি

Image
  আমার মস্তিষ্কের আবেগ এবং যুক্তি আমি অনেকের মাঝেই ঢেলে দেই। ব্যক্তিগত কিংবা সামজিকভাবে।আবেগ এখানেই বেশি ঢালি আমার ভাবনাগুলো আ্যবস্যুলেট কিংবা চিরসত্য টাইপ কিছু নয়। আমার এখনকার ভাবনাগুলো দুদিন পর অন্যরকম হওয়া স্বাভাবিক। কেননা আমি কিছুই বিশ্বাস করি না। এমনকি নিজের কোনো ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারলেই আমি সর্বোচ্চ অর্গাজম পাই কেননা আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। তখনই আমার চিন্তাটা প্রশ্নবিদ্ব হয় যখন সেটা সম্পর্কে আমি নতুন কিছু জানি। আর এই জানাটাই আমাকে আনন্দ দেয়। যদিও নতুন কিছু জানার সুযোগ আমার খুবই সীমিত। আমার মাঝে আবেগ এবং যুক্তি একইসাথে চলে। যুক্তিকে আমি বিজ্ঞান দিয়ে ছাঁকন করি আর আবেগকে ইচ্ছেমত চলতে দেই। যুক্তি যখন আবেগকে পিস্ট করে তখন অস্থির হয়ে পরি। আবার আবেগ যখন যুক্তিকে ঢেকে দেয় তখন অসহায় হয়ে পরি। আমার মস্তিষ্কের মাঝে চলা এইসব দ্বন্দ্ব আমায় একসময় বিস্মিত করে ফেলতো। চেতন-অবচেতনের লড়াই দেখে অবাক বিস্ময়ে থম মেরে যেতাম। এখন আমি আর এসব নিয়ে ততটা বিস্মিত হই না। আমি কিছুটা হলেও বুঝতে শিখেছি এর বেশিরভাগই কিছু নিউরোকেমিক্যাল সিগনালের খেলা, কিছু হরমোনের ক্রিয়াকলাপ আর আমার ডিএনএ-র মধ্যে বহন কর...

"জানা ভালো কিন্তু বেশি জানা ভালো নয়।"

Image
"জানা ভালো কিন্তু বেশি জানা ভালো নয়।" এই উপদেশটা আমি জীবনে বহুবার শুনেছি। আমি তাদেরকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছি আমি কিছুই জানি না। স্রেফ জানি না। বেশি জানার প্রশ্ন সেতো অনেকদূর। তবে আমি অনেক বেশি জানতে চাই। যতদিন বেঁচে আছি জানতে চাই। এই যেমন গতকাল নাসা সত্তর বছর পরে চাঁদের উদ্দেশ্যে মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপন সফল করেছে। অনেকগুলো ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর একটি সফল অভিযান। বলা হচ্ছে আগামীতে মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর পরীক্ষামূলক অভিযান এই মিশন। এইবার মানুষ পাঠানো হয়নি,আগামী অভিযানে মানুষ যাবে চাঁদে। এরকম কয়েকটা পরীক্ষামূলক মিশন শেষ করে মানুষ মঙ্গলে যাবে। কি অবিশ্বাস্য আমার মহাকাশ, স্পেস সাইন্স নিয়ে জ্ঞান খুবই সীমিত। আমি আরও জানতে চাই। এরকম অনেককিছুই আছে যা আমি এখন জানতে চাই, কিন্তু একটা সময় চাইতাম না। আমাকে কেউ ছোটবেলায় প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করেনি। আমি নিজে থেকে জানার চেষ্টা করেছি অনেককিছু। আমাদের পারিবারিক, সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কাঠামো সবজায়গায় মেনে নেয়ার শিক্ষা দেয়। প্রশ্ন করার শিক্ষা দেয় ই না, উপরন্তু প্রশ্ন করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। আমাদের এতো গভীরে এই নিরুৎসাহিতভাব ঢুকে গেছে সেটা ক্যান্সারে ...

তোমাকে অনুভব করছি

তোমাকে অনুভব করছি। ভীষণরকমভাবে তোমার উপস্থিতি- মস্তিষ্কে,গ্রীবায়,হৃদপিণ্ডে,অন্ডকোষে। অস্থিরতায় শক্তভাবে আঁকড়ে ধরতে ইচ্ছে হয়। তোমার স্বপ্নগুলোকে,তোমার আবেগকে,তোমার ছেলেমানুষীকে। অবচেতন হতোদ্যম হয়। নিজেকে খুঁজতে গিয়ে তোমার উপর থেকে নামতে উদ্যত হয়। পালাতে চায়,মুখ লুকায়। মস্তিষ্কের কোষগুলো ছটফট করে মরে যায়। নিউরনের বিপরীতক্রিয়ায় নিজেকেই নিজের কাছে অসহ্য মনে হয়। তাইতো পৃথিবীর প্রেমিকারা পাগল কয়। ভীরু কয়। গা-বাঁচানো প্রেমিক কয়। মরা মানুষ কয়। এভাবেই বেঁচে আছি । মৃত কোষগুলোতে সঞ্জীবনী শক্তি পাওয়ার অপেক্ষায়। জীবন্ত উচ্ছ্বাসে কেউ জাগিয়ে তুলুক আমায়। শুধুমাত্র সেই অপেক্ষায়। একটুখানি জীবন্ত অনুভূতি পাওয়ার আশায়।
Image
  সাফায়েত সানি July 26, 2016    ·  Shared with Public নিম্নবিত্তরা উদ্ধায়ী,হূট করে ধনী হইয়া যাইতে পারে।ধনীরা কঠিন মৌল তাপে তরল হইয়া যায় আর মধ্যবিত্তরা নিস্ক্রিয় মৌল......কিছুই হইতে পারে না.........
Image
  সাফায়েত সানি May 3, 2016    ·  Shared with Public ভালবাসা একটা উভমুখী বিক্রিয়া....যখন বিক্রিয়ক আর উৎপাদ কমবেশি থাকে তখন বোঝা যায়.... একটা সময় দুজনে্র ভালবাসাই সমান হয়ে যায়... সাম্য্াবস্থায় গেলে আপাতদৃষ্টিত গতি শূন্য মনে হয়। তখনই বিক্রিয়ার গতিবেগ সবচেয়ে বেশি হয়। যাদের অবচেতন মন বুঝতে পারে তাদেরটাই টিকে রয় আর যারা ধরতে পারে না তারা মোর মত সারাক্ষণ ভালবাসা কারে কয় তাই শুধু খুঁজে বেড়ায়।
একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী যখন কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলে আমরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি করি,অভিযোগের তীর তার দিকেই ছুঁড়ে দেই। কেননা তিনি আমাদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত করেছিলেন। এরকম অন্তত হাজারটা উদাহরন আমি দিতে পারবো যেখানে অভিযোগকারী মেয়েটাকেই দায়ী করা হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সংসদে দাড়িয়ে আর্জি জানানো হয়। কেননা তিনি বড় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য। টকশোতে ধর্ষনের জন্য সরাসরি দায়ী করা হয় নারীর পোশাককে। কারন আমাদের ধর্মানুভুতি। তাহলে আমরা যে প্রতিমুহূর্তে অন্যদের ধর্মানুভুতিতে আঘাত করে চলেছি তার কি হবে। আমরা গরুর মাংস খাচ্ছি যা হিন্দুদের আঘাত করছে,আমরা ওয়াইনকে হারাম বলছি যা খ্রিস্টানকে আঘাত করছে,আমরা মূর্তি পূজাকে পাপ বলছি যা বৌদ্ধদের আহত করছে।
ইন্ডিয়ায় পোশাকের স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ সোচ্চার হয়েছে দেখে ভালোই লাগলো। প্রতিটি মানুষের তার নিজের পছন্দ বেছে নেবার সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু বাংলাদেশের কোন মেয়ে যদি টপস পরে কোন হুজুরদের আল্লাহু আকবর ধ্বনির মধ্যে দাড়িয়ে বলে জয় শ্রীরাম সেটা কয়জন বাঙালি মুসলমান মেনে নিতে পারবে। একমাত্র যারা সেক্যুলার তারাই মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা মেনে নিতে পারে। আপনি যতই গালি দেন না কেন এরাই একমাত্র সহনশীল মানুষ। এটা ঠিক অনেক বছর লালন করা বিশ্বাস থেকে বের হয়ে আসার পর ভুল-ভ্রান্তির হিসেব করাটা একটু কঠিন হয়ে দাড়ায়। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে আমরা অনেক বেশি সিরিয়াস। হয়তো অনেক ক্ষেত্রে অনেকে সঠিক জ্ঞানের অভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তবে ভুল বুঝতে পারলে আবার সেটা স্বীকার করতে দেরি করে না।

গোলমেলে জীবন

নিজেকে ইদানীং খুব গোলমেলে মনে হয়। ইদানীং বই পড়তেও ভালো লাগে না। আর যা কিছু করছি তাও খুব বোরিং লাগে। কারন খুঁজতে গেলে হয়তো অনেক কারন খুঁজে পাওয়া যাবে। গতবছর এপ্রিলে মাকে হারিয়েছি। জুনে ভাইকে। একাকী নিঃসঙ্গ সময়টায় বার বার মনে হয়েছে একজন কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা যাদের রয়েছে তারাতো তবু তাকে দায়ী করতে পারে, আমার তো সেটাও নেই। তবে এসব আবেগী চিন্তা খুব বেশি সময় থাকে না। আমি জানি আমার এই অবস্থার দায় এই সমাজটার। তাইতো ইচ্ছে হয় সর্বশক্তি দিয়ে এই সমাজটার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করি। কিন্তু বাস্তবতা সেটা করতে দেয় না। এই সমাজের বিরুদ্ধে সরাসরি কিছু বলে এখানে টিকে থাকাটা কষ্টকর। আর জীবনের ভয় সেতো আছেই। তাই হয়তো গোলমেলে মস্তিষ্কটা সুস্পষ্ট কিছু করতে পারে না। লেখাগুলো পড়লে মনে হয় সেগুলো যেন আরো গোলমেলে। দিনশেষে তাই বলি চলুক না এই গোলমেলে জীবন, এতেই নাহয় খুঁজে ফিরি সুখের আনন্দ।

ফাল্গুন,ভ্যালেন্টাইন,বৈশাখ উদযাপন

  প্রেমিক হিসেবে কখনও ফাল্গুন,ভ্যালেন্টাইন,বৈশাখ উদযাপন করা হয়ে উঠেনি। যদিও টানা চার বছর প্রেম করেছি। তবুও হয়ে উঠেনি। এর কারন দুটো। প্রথমত অর্থনৈতিক আর দ্বিতীয়ত প্রেমিকার অনীহা। আসলে যেটা করেছি সেটা একধরনের একতরফা প্রেমই হয়তো বলা চলে। যদিও কখনও এমন হয়নি ওর ভালোবাসায় ঘাটতি ছিলো মনে হয়েছে । কিন্তু বাঙালি মেয়েরা যেমনটা হয়। মফস্বল শহরে সামান্য দেখা করতে গেলেও আতংকিত হয়ে পরতো। তাই এইসব দিবসে একান্ত ঘনিষ্ঠ সময় কাটানোর সুযোগ কখনোই হয়ে উঠেনি। তবে আমার ব্যর্থতাও ছিলো। ওই সময়টায় অর্থনৈতিকভাবে প্রচন্ড লড়াই করতে হয়েছে। তাই দেখা-সাক্ষাৎ খুব কমই হতো। যদিও একই শহরে নিবাস ছিলো দুজনের। এইসব দিবস আসলে দুজনেই দেখা করাটা এড়িয়ে চলতাম। আমার ছিলো অর্থনৈতিক সমস্যা আর ওর ব্যপারটা আজ নয় বছর পরেও ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। প্রেমটা ভেঙে যাওয়ার পরে দ্বিতীয় প্রেম করার ইচ্ছে থাকলেও উপায় হয়নি। কেননা নতুন করে সম্পর্কে জড়ানোর জন্য যে মানসিক স্টাবিলিটি দরকার ছিলো সেটা আর ছিলো না।পারিবারিক সমস্যা, অর্থনৈতিক তথৈবচ অবস্থা আর ক্যারিয়ার নিয়ে এতটাই হতাশ ছিলাম আর হয়েই উঠেনি। তাই এইসব বিশেষ দিনগুলোর প্রতি একধরনের অনীহা তৈরি হয়...
আমার মা নেই। নেই মানে নেই। তার আর কোন অস্তিত্ব নেই। অস্তিত্ব আছে শুধু আমার কল্পনায়। অনন্ত জীবনের কথা আমাদের ক্রিয়েচারে লেখা আছে। সেই অনন্ত জীবন কেমন হবে সেটা মানুষ জানে। কি হাস্যকর কথাবার্তা। মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি ছায়াপথের মাঝারি মানের একটা নক্ষত্রের একটি গ্রহ পৃথিবী। তার একটি ক্ষুদ্র প্রজাতি মানুষ। তারা আরও শত শত বছর আগে জেনে গেছে অনন্ত জীবনের সন্ধান। কি অদ্ভুত। কি রোমাঞ্চকর। কতটা ব্রিলিয়ান্ট ছিলেন সেই মহামানবেরা। তাদের জীবনব্যবস্থা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। যতদিন এই মানব প্রজাতি টিকে থাকবে আমাদের তাদেরকে অনুকরন করে যেতে হবে। না করলে অনন্তকাল নরকে পুড়তে হবে। কি ভয়ানক।
অবচেতন বড্ড স্পষ্ট,আবার খুব অস্পষ্ট। কখনও লজিক্যাল,কখনও ইমোশনাল। কখনও মানুষ,কখনও অমানুষ। কখনও হাসে,পরক্ষণেই কাঁদে। কখনও ভাবুক,কখনও উজবুক। কখনও নৈতিকতার পরাকাষ্ঠা, কখনও নীতিহীনের পরম স্রষ্টা। কখনও শৃঙ্খল, কখনও উশৃঙ্খল। অশান্ত এই মস্তিষ্ক বড়ই উত্তাল। তাইতো বুঝিনা অবচেতনের হইবে কোন বা*।
আমাদের সমাজে ভয়াবহ ধরনের যৌন বিকৃতি বিদ্যমান। যৌনতাকে যেহেতু আমরা অস্বাভাবিক জেনে বড় হই ;তাই আমাদের অধিকাংশের যৌনতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই। যৌন আকাঙ্খা নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সবার রয়েছে। কিন্তু পুরুষ যৌনতাকে প্রকাশ করতে যতটা প্রাঞ্জল, নারী ততটাই বিমুখ। অনলাইন এসে পুরুষের সেই প্রান্জলতা সীমা অতিক্রম করে হয়রানির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আর নারীর যৌন বিমুখতা সেই হয়রানিকে ভয়বহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আমি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভয়াবহতার কথা মোটেই অস্বীকার করছি না। সোস্যাল মিডিয়ায় অনেক নারীর অনেকরকম নারীবাদী পোস্ট দেখি। অনেককে মাঝে মাঝে ইনবক্সে গুঁতা দেই,অনেককে কমেন্টবক্সে ঠেলা দেই। এর পিছনে অনেক রকম কারন রয়েছে। সেই ব্যাখ্যা আপাতত তুলে রাখছি। আমরা পুরুষেরা ভালো নই। নারী দেখলেই ঝাঁপিয়ে পরি। ইহা কমন ডায়ালগ। কিন্তু নারীদের কি হাল। অধিকাংশ মেয়েরাই নিজেকে আলাদা মনে করে। আলাদা মানে সে নিজেকে ঠিক মানুষ ভাবতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। সে নিজেকে একজন রমনী ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। হয়তো অনেকেই মুখে সমানাধিকারের কথা বলে,পুরুষতান্ত্রিকতাকে গাইল পারে। কিন্তু মানসিকভাবে সে নারীস্বত্বা থেকে বের হতে পারে না। একজন পুর...
Image
মানুষ তার দুঃখের গল্পগুলো শোনাতে চায়। সবাইকে নয়। নিশ্চয়ই অল্পকিছু মানুষকে। তাদের আকৃষ্ট করতে চায় নিজের দিকে। হয়তো এই গল্প শুনিয়ে সে কিছুটা ভারমুক্ত হতে চায়। হয়তোবা কিছুটা সিমপ্যাথি পেতে চায়। হয়তোবা কিছুটা ভালোবাসা পেতে চায়। আবার এমনও হতে পারে সে তার অতৃপ্ত কামনাকে তৃপ্ত করতে চায়। একটা ছেলে একজন অপরিচিত মেয়ের কাছে তার দুঃখের গল্পগুলো যতটা আগ্রহ নিয়ে শোনায়, একজন ছেলের কাছে কি ততটা আগ্রহ নিয়ে শোনায়   কিংবা একজন মেয়ে তার প্রাক্তন প্রেমিকের কথা একজন ছেলের কাছে যতটা আবেগ নিয়ে বলে ততটা কি একজন মেয়ের কাছে বলতে পারে পারে না। আমরা দুঃখের গল্প বলার সঙ্গী খুঁজে ফিরি। সেই সঙ্গীর সাথে শুধু গল্প করতে চাই এমনটা নয়। সেই সঙ্গীর সাথে আমরা সঙ্গমেও লিপ্ত হতে চাই। এরমধ্যে কোন অস্বাভাবিকতা নেই। এটাই স্বাভাবিক। এখন এই বন্ধুত্বকে আমরা প্রেম বলবো নাকি অন্যনামে সজ্ঞায়িত করবো সেটা আমার জানা নেই। তবে দুজনের কমিটমেন্ট যদি স্পষ্ট থাকে তবে আমি এরমাঝে কোন অপরাধ দেখি না।
Image
বুঝতে শেখার পর থেকেই নিজের অস্তিত্ব খুঁজে ফিরেছি সবসময়। আমাদের মস্তিষ্ক কেন অপরাধ করতে উৎসাহী হয়ে উঠে সেই প্রশ্ন আমার ঘুম কেড়ে নেয় প্রতিনিয়ত। একটা ধর্মহীন সমাজ তৈরি হলে হয়তো সমস্যাগুলোর সমাধান সহজে করা যাবে। কিন্তু ধর্মহীন অশিক্ষিত একটা সমাজ তৈরি করলে কি সমস্যার সমাধান আদৌও করা সম্ভব হবে। হবে না। কেননা আমি যদি ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য না বুঝি তাহলে আমার অপরাধপ্রবণতা থেকে মুক্তির উপায় কি সমাজটা মনে হয় এইদিকেই অগ্রসর হচ্ছে।অনেকেই ধর্মের জাল ছিড়ে বের হয়ে যাচ্ছে। ধর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ব ঘোষনা করছে। কিন্তু ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারছে না। জীবনের উদ্দেশ্য বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। ধর্মহীন সমাজের থেকে একটা সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলাটাই উত্তম বলে মনে হয়।
বর্ষনমুখর এই রাতে একটা অতৃপ্ত আত্মা নিয়ে সে বসে আছে। সেই আত্মার নিভৃত ক্রন্দন প্রকাশ করার ভাষা জানা নেই। শেখানো হয়নি কিভাবে প্রকাশ করতে হয় সেই আকাঙ্খা। তাইতো সে শত উপমা দিয়ে ভালোবাসার মানুষ খোঁজে। তবু তার দেখা মেলে না। কেননা তার জানা নেই ভালোবাসার স্বরুপ কেমন।
ইহা সত্য মনের মিলন না হলে শরীরের মিলন সম্ভব নয়। কিন্তু মন জিনিসটাকে আমরা এতোটাই গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছি যে শরীরটার যেন কোন মূল্যই নেই। মন বলতে আমরা সহজভাবে মস্তিষ্কের নানারকমের ক্রিয়া-কর্মকেই বুঝি। আর মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শরীরের চাহিদা দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। তাই শরীরকে বাদ দিয়ে যদি শুধু মনকেই চাই সেটা হবে অলৌকিক কল্পনা। আমরা এভাবেই ভালোবাসা চেয়ে এসেছি। ভালোবাসাকে মহিমান্বিত করতে গিয়ে কবি সাহিত্যকরা শরীরটাকে যেন আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। অনেকের মধ্যেই দেখি শরীরটাকে কোন গুরুত্বই দিতে চান না। কিন্তু শরীর ছাড়া মন নামক বস্তুটার আদৌও কোন অস্তিত্ব নেই। তাই শরীরের চাহিদার সাথে ভালোবাসার একটা নিগূঢ় সম্পর্ক রয়েছে। শত শত বছর যৌনতাকে অশ্লীল আর গোপনীয় ভাবতে ভাবতে আমরা নিজের অজান্তেই হয়তো বুঝতে পারি না ভালোবাসার জন্মটাই যৌনতা থেকে। তাই যৌনতাকে হেয় করে শুধু মন নিয়ে পরে থাকতে দেখলে সেটাকে ঠিক ভালোবাসা বলতে কেমন বাঁধো বাঁধো ঠেকে । তবে জন্মটা শরীরের চাহিদা থেকে হলেও গাছটা বেড়ে উঠে মস্তিষ্কে। সেখানেই সে মহীরুহে পরিনত হয়। ফুল দেয়,ফল দেয়,পত্র পল্লবীতে বিকশিত হয়। তাই শুধু শরীর কিংবা শুধু মন দিয়ে ভা...
সোস্যাল মিডিয়ার কল্যানে পরিচিত/অপরিচিত অনেককেই দেখছি ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি যদি আপনার শ্রদ্বা থাকে,তাইলে আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিলেন কোন অধিকারে?আজ আমি ক্লান্ত নিজের অপ্রকাশিত কথামালার ভারে।