প্রথমের পরেও একটা শুরু থাকে
আমার মধ্যে কর্মস্পৃহাটা আমি কখনই খুঁজে পাই নি। আপনার দেখা সবচেয়ে কর্মবিমুখ মানুষটার জায়গায় আমাকে বসিয়ে দিন। পারফেক্ট । অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম লেখাটা শুরু করব। ভাবা পর্যন্তই । কলম আর হাতে নেয়া হয় না । স্যারের বাসায় নিয়মিত পড়তে যাওয়াটা আমার স্কুল জীবনের সাথে সাথে সমাপ্ত হয়ে যায়। কারন তখন মায়ের কাছে ছিলাম । মা জোর করে,বুঝিয়ে, লোভ দেখিয়ে আরও কত কি করে যে পড়াতে পাঠাতেন এখন সব মনেও পড়ে না।
স্কুল জীবনের পরিসমাপ্তি। মায়ের কোল ছেড়ে শহুরে মেস জীবনের শুরু। আর নিয়মিত প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সমাপ্তি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও ছন্দপতন শুরু । কখন-কিভাবে যে ছন্দপতনটা হল তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব না । তবে সকালবেলা কলেজের থেকে যখন ঘুমটা প্রিয় হয়ে উঠল তখন থেকেই হয়তো শুরু । এরপর একদিন সদর রোডে ঘুরতে ঘুরতে আঙ্কেল আর তার দোকানের সাথে পরিচয় । একটা প্রবাদ আছে , “হাঁসের কুড়ার নাগাল পাওয়া” । আমিও যেন কুঁড়ার নাগাল পেলাম । মফস্বল শহরে যেখানে একটা ‘ওয়েস্টার্ন ‘ পাওয়া ছিল প্রবল সাধনার বিষয় , সেখানে ওয়েস্টার্নের সমগ্র জগৎটাই আঙ্কেল সাজিয়ে রেখেছেন। মাসুদ রানা, অনুবাদ, তিন গোয়েন্দা । কি নেই তার কাছে। প্রতিটা বইয়ের ভাড়া ছিল মাত্র পাঁচ-দশ টাকার মধ্যে।যত টাকা জমা রাখবেন তার সমপরিমান মূল্যের বই ভাড়া নেয়া যাবে। একশ টাকা জমা রেখে তিনটা বই ভাড়া নিয়েছিলাম । দুটা ওয়েস্টার্ন আর একটা অনুবাদ। সন্ধ্যাটা ছিল আমার জীবনের একটা স্মরনীয় সন্ধ্যা। বই নিয়ে রুমে আসতে আসতে যতটা আনন্দ পেয়েছিলাম , সেরকম আনন্দের মুহূর্ত আমার ক্ষুদ্র জীবনে খুব কমই এসেছে। সেদিন রাতে আর ঘুমালাম না ।ফযরের আযান শুনে নিয়মিত ঘুমাতে যাবার হয়ত সেটাই শুরু ছিল। আসলে সেদিন যেখানে হারিয়ে গেছিলাম সেভাবে হারাতে পারলে জীবনে আর কিছুই চাই না । এরপর সমগ্র ইন্টারমিডিয়েট সময়কালটা আঙ্কেলের সেই মায়ার জগতেই কেটে গেছে। সামান্য পড়ার চাপ আর বন্ধুদের সাথে কাটানো কিছু রঙিন মুহূর্ত হয়তো সেই সাদাকালো জগতটাকে মাঝে মাঝে ভুলিয়ে দিত। কিন্তু আপনি সেটা ধরার মধ্যে না নিলেও পারেন। বই পড়ার শুরুটা কিভাবে হইয়েছিল সেটা হয়তো অন্য কোন একদিন শুনিয়ে দেব। কিন্তু বই পড়ার নেশাটা কিভাবে হল সেটা আজকে বললাম। কি পেয়েছি আর কি হারিয়েছি সেটাও নাহয় ভবিষ্যতের জন্যই তোলা থাক । গল্পচ্ছলে সেটাও হয়তো একদিন শুনিয়ে যাব । যদি আপনাদের ধৈর্যের বাঁধ ততদিন পর্যন্ত অটুট থাকে আর এই অধম সুস্থ মস্তিষ্কে বেঁচে থাকে। বিদায় ।

Comments
Post a Comment