পাইলস বা অর্শরোগ
বর্তমানে
আমাদের অধিকাংশ মানুষের একটি অন্যতম সমস্যা হল পাইলস বা অর্শ রোগ।স্পর্শকাতর রোগ হওয়ার কারনে সাধারন অবস্থায় এই সমস্যাটা
নিয়ে আমরা পরিচিতজনের সাথে আলাপ করতে দ্বিধাবোধ করি। কিন্তু আপনি একটু সচেতন হলে
এই সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পেতে পারেন।
পাইলস বা অর্শরোগ কি এবং কেন হয়?
সাধারনভাবে
মলদ্বারের মাংস বেড়ে যাওয়াকে আমরা পাইলস বলে অভিহিত করি।আমাদের বৃহদান্ত্রের শেষাংশে
রেকটামের ভিতরে ও বাইরে থাকা কুশনের মত একটা রক্তজালিকা থাকে যা প্রয়োজনে সংকুচিত
ও প্রসারিত হয়।যখন পায়ুপথের এসব শিরায় সংক্রমণ ও প্রদাহ হয় এবং চাপ পরে তখন পাইলসে
প্রদাহ সৃষ্টি হয় । যাকে অর্শরোগ বলা হয় ।
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ,দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া,
অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের পায়ুপথে চাপ পরলে, পায়ুপথে সঙ্গম করলে, পানি
কম খেলে, আঁশযুক্ত শাকসবজি ও ফলমুল কম খেলে, বংশে কারো পাইলস থাকলে, মলত্যাগে বেশি
চাপ দিলে ইত্যাদি কারনে আপনার পাইলসে প্রদাহ বা
অর্শরোগ হতে পারে ।
লক্ষণ ও প্রতিকারঃ
অর্শরোগে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হচেছ- পায়ুপথের অন্ত্র
বা ভেতরের অর্শরোগে সাধারণত তেমন কোন ব্যথা বেদনা, অস্বস্তি থাকে না, অন্যদিকে পায়ুপথের বহিঃ অর্শরোগে পায়ুপথ
চুলকায়, বসলে ব্যথা করে, পায়খানার রক্ত দেখা যায় বা শৌচ করা
টিস্যুতে তাজা রক্ত লেগে থাকে, মলত্যাগে ব্যথা লাগা, পায়ুর চারপাশে
এক বা একের অধিক থোকা থোকা ফোলা থাকে।
আমরা সবাই জানি যে কোন রোগ প্রতিকারের
চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই পাইলস হবার আগে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আঁশযুক্ত শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, ফাস্টফুড জাতীয়
খাবার পরিহার করতে হবে।এছাড়া বাসক, থানকুনি, আমলকী, হরীতকী, মেহেদীপাতা, ইসাপগুল, নিমপাতা পাইলস প্রতিরোধে কার্যকরী
ভুমিকা পালন করে। তবে আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনার পাইলস হয়েছে তবে
দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করা উচিত।পাইলস অবহেলা করার মত রোগ নয়।
যথাসময়ে সঠিক পরামর্শ আপনাকে খুব সহজেই জটিল এই রোগ থেকে মুক্ত করতে পারে ।
Comments
Post a Comment